খুব ভোরে খানিকটা বৃষ্টি হল। বর্ষা মৌসুম ছাড়া খুব ভোরে সচরাচর এমন বৃষ্টি হয় না। এমন বৃষ্টিতে আরো জমিয়ে ঘুম হয়। কিন্তু অখিল পোদ্দারের ঘুম পুরোপুরি ভেঙে গেল। ব্যস, শরীরটা ম্যাজম্যাজ করতে শুরু করল। রাতে ঘুম ভাল হয়নি। এ সবই বোধকরি বয়সের লক্ষণ। তিনি বিছানা ছেড়ে আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়ালেন। জানালা দিয়ে ঘরে শীতল বাতাস ঢুকছে। সকালের আলো ঢুকছে। হালকা-পাতলা মধ্যবয়স্ক শরীরে ঠান্ডা ভাবটা এসে লাগছে। তিনি আয়নার দিকে ঝুকে দুই আঙুল দিয়ে কণ্ঠনালীর চামড়া টেনে দেখলেন। হুম, কাপড়ের মত ঢিলে হয়ে আসছে। তিনি শুনেছেন, মানুষের বার্ধক্য নাকি প্রথম উঁকি দেয় কণ্ঠনালীর চামড়ায়। এরপর ধরা দেয় চোখের দু-কোণে। তারপর মুখে বলিরেখাগুলো ছবি আঁকতে শুরু করে। মাকড়শার জালের মতো মুখে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। সেই জাল জীবনকে ধীরে ধীরে পৃথিবীর কাছে অবাঞ্ছিত করে তোলে। এক সময় লাথি মেরে পৃথিবী থেকে বের করে দেয়। এই মাঝ বয়সেই অখিল পোদ্দারকে লাথি খাওয়ার সেই ভয় চেপে ধরতে শুরু করেছে।
Read more
যে-রকম বোধ আমাকে কবিতা লিখতে উৎসাহ দেয়, সে-রকম বোধে অনুপ্রাণিত হয়েই, দুদশক আগে, লিখেছিলাম লাল নীল দীপাবলি। একটি দীর্ঘ কবিতার মতোই কয়েক দিনের মধ্যে লাল নীল দীপাবলি রচিত হয়ে উঠেছিলো। আজ আর আমার পক্ষে এ-বই লেখা সম্ভব নয়। এ-বইয়ের পাঠক হিশেবে আমার কল্পনায় ছিলো স্বপ্নকাতর সে-কিশোরকিশোরীরা তরুণতরুণীরা, যারা আছে কোমল কৈশোরের শেষ রেখায়, বা যারা কৈশোর পেরিয়ে ঢুকেছে এক বিস্ময়কর আলোতে, যাদের সৌরলোক ভরে গেছে সাহিত্যের স্বর্ণশস্যে। একদা আমি সবুজ বাল্যকাল পেরিয়ে সাহিত্যের মধ্যে মহাজগৎকে দেখেছিলাম, লাল নীল দীপাবলি তাদেরই জন্যে যারা আজ একদা আমার মতো।
Read more
এ-ছোটো বইটি বা দীর্ঘ রচনাটি লিখেছিলাম আমি ষোলো বছর আগে, যখন দেশে এক সামরিক অন্ধকার ও এক ক্ষুদ্র একনায়ক নিহত হওয়ার পর, আরেক সামরিক অন্ধকার আসার প্রস্তুতি নিচ্ছিলো, এবং মহাসমারোহে এসে পড়েছিলো লেখাটি পত্রিকায় বেরোনোর এক মাসের মধ্যেই। তারপর ষোলো বছর ও অনেক অন্ধকার কেটে গেছে, বাঙলাদেশ যাপন করেছে বিপর্যয়ের পর বিপর্যয়, এবং শূদ্র বাঙলা ভাষার অবস্থানের কোনোই উন্নতি ঘটে নি। বইটির কথা আমি ভুলতেই বসেছিলাম, কিন্তু কয়েকজন অনুরাগী মাঝেমাঝে বইটিকে মনে করিয়ে দিচ্ছিলেন ব’লে এটি আবার বেরোলো।
Read more
প্রিয় পাঠক, আপনার কান দু’টিকে সম্মোহিত করার জন্য এখানে রয়েছে একেবারে মিলিশিয়ান কায়দায় ভিন্ন ভিন্ন গল্পের সমাহার; গল্পগুলি শুনে আপনি মজা পাবেন। অবশ্য আশা করছি, এই নীল নদে পাওয়া খাগড়ার তৈরি কলমের তীক্ষ্ণ ডগা দিয়ে ছাপানো, মিশর থেকে আগত বইটাকে উপেক্ষা করার মতো উন্নাসিকতা আপনার নাই। সেই সাথে এও ধরে নিচ্ছি, মিশরীয় গল্প বলার যে পদ্ধতি, মানে যেসব গল্পে মানুষের দেহের গড়ন ও ভাগ্যের ধরন পালটে গিয়ে বহুরূপ নেয়, আর বিভিন্ন অভিযানের পর সেগুলি আবারও তাদের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে—সেই প্রকারের গল্প শুনে মনোরঞ্জিত হওয়ার ব্যাপারেও আপনার ইতস্তততা নাই। শুরু করি তাহলে।
Read more
এই গল্পটা জীবককে শোনাতে হবে। ঢোঁড়া সাপ কী করে বিষহীন হয়ে গেল।
ঢোঁড়া সাপের একসময় খুব বিষ ছিল। বিষের কারণে ও অহংকারী হয়ে উঠেছিল। মনসা ঠাকুরাণকে ও তেমন পাত্তা দিচ্ছিল না। মনসা ভাবলেন – দাঁড়া, মজা দেখাচ্ছি।
ঢোঁড়া ছিল খুব লোভী। সেটা মনসা ঠাকুরাণী জানতেন। একদিন এক পুকুরপাড়ে ঢোঁড়া সাপ শুয়ে আছে। একটা ব্যাঙ ঝম্প দিয়ে একটা নদীতে পড়ল। ঢোঁড়াও ব্যাঙকে খাবার জন্য জলে ঝম্প দিলো, ব্যাঙকে খেয়ে নিল। তাতে সাপের তৃপ্তি হলো না।
Read more
ঢাকা শহরটা জেগে ওঠার আগেভাগে সূর্য এর স্বপ্নিল আভা উপরমুখী উঠে যাওয়া ইটপাটকেলের জবুথবু অথচ দাপুটে দালানকোঠার ওপরকার ঝুলন্ত আস্তরণের বাধাবিপত্তি এড়িয়ে সন্তর্পণে, অনেকটা যেন সস্নেহ পরশ বুলিয়ে এসে পড়তে থাকে, জমতে থাকে ধানম–র চিলতে লেকের পশ্চিম পাড়ের জবরদখল করা বেঢপ পস্নটে মাথা তুলে দাঁড়ানো বিল্ডিংয়ের চতুর্থতলার ঝুলবারান্দার শিউলির বাবার সযত্নে লালিত মাটির টবের নানা রঙের তরতাজা ফুলের পাপড়ি-পাতা-গাছগাছালির সমারোহে।
Read more
দলবেঁধে কোথাও যাওয়া আনন্দের উৎসব। একা একা ঘুরে বেড়ানো উৎসব হয় না। তখন বিচ্ছিন্ন জীবনের আর্তনাদ ধ্বনিত হয় বুকের ভেতর। ভালো লাগার আনন্দ নষ্ট হয়। সামনে দিয়ে হেঁটে যাওয়া বুনোপাখিও আনন্দের জোয়ারে ভাসায় না। সেজন্য আশিকা কোথাও একা যাওয়ার প্রোগ্রাম মেনে নেয় না। গাছের নিচে চুপ করে বসে থাকলে বুকের ভেতরটা জমাট হয়ে যায়। পাথরের স্তর যেন, যে-স্তর ভেঙে এগোনো কঠিন।
Read more
বাজার থেকে বাড়ি ফিরে ললিত শুনল, আবার একটা ঢেউ আসছে।
কণিকার খবর। বাড়ি বসেই খবর পায় কণিকা। ইউটিউব, ইন্টারনেটের ওয়েব পোর্টাল, ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ তার খবরের উৎস। তা ব্যতীত টেলিফোন তো আছেই। বিকেলে খবরের কাগজ খুঁটিয়ে পড়ে কণিকা। ঢেউয়ের পরে ঢেউ আসছে। প্রথম ঢেউয়ে বেসামাল হয়েছে সারাবিশ্ব। তা কমতির দিকে এখন।
Read more